শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ইউরোপজুড়ে এখন তীব্র দাবদাহে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে স্পেনে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দাবানল, বিদ্যুৎ সংকট এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাতিল করা হচ্ছে বড় বড় জনসমাগম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
স্পেনের সরকারি মোমো মনিটরিং সিস্টেম জানিয়েছে, দাবদাহজনিত কারণে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩২৭ জনে পৌঁছেছে। বার্সেলোনার নিকটবর্তী একটি বনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চরম গরমের কারণে প্যারিসের সব হাসপাতালে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে এবং বাড়িতে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে দাবদাহ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে জার্মানির সারব্রুকেনে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বেলজিয়ামের ক্লাইন ব্রোগেলে ৪০ ডিগ্রি, নেদারল্যান্ডসের লিমবার্গে ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের সাফোকে ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার ইউরোপের অন্তত ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনে এই তাপপ্রবাহ আরও উত্তর ও পূর্ব ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চেক প্রজাতন্ত্র ও অস্ট্রিয়াতেও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মুখপাত্র ক্লেয়ার নিউলিস বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে এবং এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
বিজ্ঞানীদের মতে, একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। জলবায়ু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ, যেখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চরম গরমের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতেও। সুইজারল্যান্ডের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সময়ে কোলন থেকে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন বিকল হয়ে পড়লে প্রায় ৪০০ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে তিনজনকে হাসপাতালে নিতে হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্যারিস প্রাইড মার্চ, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল, ম্যারাথনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বহু গণআয়োজন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষকরা সতর্ক করেছেন, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই গলতে শুরু করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।